রাত বাড়লেই ফালাকাটায় ওষুধের সংকট? জরুরি রোগীর জীবন নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন?
ফালাকাটা:
রাত গভীর হলেই কি ফালাকাটায় চিকিৎসা পরিষেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়? হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা মিললেও প্রেসক্রিপশন হাতে বাইরে বেরিয়ে ওষুধের দোকান খুঁজতে গিয়ে যদি রোগীর পরিবারকে রাতভর ঘুরতে হয়, তাহলে সেই পরিষেবার দায়ভার শেষ পর্যন্ত কার?
ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান না থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে হাসপাতাল থেকে প্রেসক্রিপশন হাতে পাওয়ার পর অনেক রোগীর পরিজনকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে যেতে হয়। দিনের বেলায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে রাতের বেলায় ওষুধ কিনতে গিয়ে অনেকেই এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটে বেড়ান। কোথাও শাটার বন্ধ, কোথাও নির্দিষ্ট সময়ের পর পরিষেবা নেই। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতে পেতে পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করতে হয় সকাল হওয়া পর্যন্ত।
আর এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জরুরি ওষুধ সময়মতো না পাওয়ার কারণে যদি কোনও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, তাহলে তার দায়ভার নেবে কে?
অনলাইন তথ্য অনুযায়ী, ফালাকাটার হাসপাতাল রোড ও বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ওষুধের দোকান রাতের পরিষেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।
এর মধ্যে নানী মেডিক্যাল, জীবন রেখা মেডিক্যাল, লাইফ লাইন মেডিক্যাল এবং ফালাকাটা মেডিক্যাল-এর নাম বিভিন্ন অনলাইন তালিকায় দেখা যায়। কোথাও নির্দিষ্ট দিনে রাত পর্যন্ত, কোথাও ২৪ ঘণ্টা পরিষেবার তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইনে যে সময়সূচি দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে সেই অনুযায়ী রাতের পরিষেবা সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তথ্য আর বাস্তব পরিষেবার মধ্যে ফারাক থাকলে তার দায়ভার কার—এই প্রশ্নও সামনে আসছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানগুলির বক্তব্য ও রাতের পরিষেবার প্রকৃত সময়সূচি প্রশাসনের তরফে যাচাই করা জরুরি।
রাতের অন্ধকারে প্রেসক্রিপশন হাতে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর আত্মীয়দের অসহায়তা যে কতটা তীব্র, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। একজন রোগীর কাছে কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষাও কখনও কখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু হাসপাতালের চিকিৎসক বা জরুরি বিভাগ থাকলেই হবে না—জরুরি ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতাও স্বাস্থ্য পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রশ্ন উঠছে, ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আশপাশে রাতের জরুরি ওষুধ পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে কি না। যদি থাকে, তাহলে তা সাধারণ মানুষ জানেন কি? আর যদি কোনও দোকান ২৪ ঘণ্টা পরিষেবার কথা জানিয়ে বাস্তবে সেই পরিষেবা না দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করছে কি?
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রত্যাশা থাকলেও ফালাকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাতের জরুরি ওষুধ পরিষেবা নিয়ে যদি সাধারণ মানুষকে এমন সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের নজরে আসার মতো বিষয়।
শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের কাছে তাই সরাসরি প্রশ্ন—ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে রাতভর জরুরি ওষুধ পরিষেবা নিশ্চিত করার কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা কি করা যায় না?
প্রয়োজনে হাসপাতাল চত্বরে বা সংলগ্ন এলাকায় নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার ন্যায্য মূল্যের ওষুধের কাউন্টার, অথবা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রোস্টারভিত্তিক রাতের ওষুধের দোকানের তালিকা ও নম্বর প্রকাশ করা যেতে পারে। তাহলে গভীর রাতে রোগীর পরিজনকে অন্ধকার রাস্তায় দোকান খুঁজে ছুটতে হবে না।
কারণ স্বাস্থ্য পরিষেবায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানও কখনও কখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ফালাকাটাবাসীর প্রশ্ন একটাই—রাতে জরুরি ওষুধের জন্য যদি মানুষকে দোকান থেকে দোকানে ছুটতে হয়, তাহলে হাসপাতালকেন্দ্রিক জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার এই ঘাটতি মেটানোর দায়িত্ব কার?
সংগৃহীত প্রতিকী ছবি




