মালবাজার: সন্তান জন্মের পর সরকারি নথি তৈরি করতে আর ছুটতে হবে না এক দফতর থেকে অন্য দফতরে। আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র কিংবা কাস্ট সার্টিফিকেট তৈরির জন্য বারবার অফিসে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর দিন এবার বদলাতে চলেছে। বিশেষ করে চা-বাগান এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতেই বড় উদ্যোগ নিল মালবাজার মহকুমা প্রশাসন।
রাজ্যে প্রথম পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে মালবাজারে শুরু হল ‘পরিচয়’ প্রকল্প। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—শিশুর জন্মের পর প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তৈরির প্রক্রিয়াকে হাসপাতালকেন্দ্রিক করে দেওয়া এবং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া মানুষের বাড়ির দরজায়।
নতুন ব্যবস্থায় কোনও শিশুর জন্মের পর হাসপাতাল থেকেই শুরু হবে জন্ম শংসাপত্র, আধার এবং কাস্ট সার্টিফিকেট তৈরির প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, সন্তান জন্মের পর নথিপত্র তৈরির জন্য অভিভাবকদের আর বারবার সরকারি দফতরে ছুটতে হবে না। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নথি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বাড়িতে।
চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি। দুর্গম এলাকা থেকে জেলা বা মহকুমা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে বারবার যাতায়াত করা অনেক পরিবারের কাছেই সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়সাপেক্ষ। তার উপর কাজের দিন নষ্ট হওয়ার চাপও থাকে। ফলে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার মুখে পড়েন বহু মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে ‘পরিচয়’ প্রকল্প শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং সরকারি পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন মডেল বলেই মনে করা হচ্ছে। শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র ও নথি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হলে ভবিষ্যতে স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবারের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে।
এখন দেখার, মালবাজারে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই ‘পরিচয়’ প্রকল্প কতটা সফল হয় এবং ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য মহকুমা ও জেলাতেও এই পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়া হয় কি না।




